সোমবার, ৭ জুলাই, ২০২৫

সহনশীলতা

সহনশীলতা
তরিকুল ইসলাম খালাসী
মধ্যবেনা, বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা)

সবর করা বড় গুণ
থাকে যার মনে,
তার চোখেই শান্তি ধারা
নামে প্রতিক্ষণে।

রাগে মন ফোঁসে যদি
থাকো চুপ করে,
জয়ী হয় সেই মানুষ
যে রবের ভরসা করে।

গালি যদি কেউ দেয়
বলো না কিছু তার,
ক্ষমার চোখে দখলে তুমি
পাবেই সঠিক বিচার।

রব নিজেই ন্যায়বিচারক,
তিনিই দেখেন সব, 
ফুরিয়ে যাবে অন্যায়ের দিন 
দিতেই হবে হিসাব ।। 

অর্থ/ব্যাখ্যা: 

এই কবিতায় কবি সহনশীলতা ও ধৈর্যের গুরুত্ব বোঝাতে চেয়েছেন। রাগ, গালি বা অন্যায়ের মুখোমুখি হলেও ধৈর্য ধরে আল্লাহর ভরসা করলে সফলতা ও সঠিক বিচার মিলবেই। মূল শিক্ষা হলো—ক্ষমাশীলতা ও সহনশীলতা মানুষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ।
---
প্রথম স্তবক:
“সবর করা বড় গুণ
থাকে যার মনে,
তার চোখেই শান্তি ধারা
নামে প্রতিক্ষণে।”
👉 ধৈর্য (সবর) মানুষের বড় গুণ। যার মনে ধৈর্য থাকে, তার জীবন শান্তিতে ভরে ওঠে, তার চোখে নেমে আসে প্রশান্তির ধারা।
---
দ্বিতীয় স্তবক:
“রাগে মন ফোঁসে যদি
থাকো চুপ করে,
জয়ী হয় সেই মানুষ
যে রবের ভরসা করে।”
👉 রাগ উঠলেও চুপ থাকা উত্তম। যে মানুষ রাগ সংবরণ করে এবং আল্লাহর ভরসা রাখে, সেই-ই প্রকৃত বিজয়ী হয়।
---
তৃতীয় স্তবক:
“গালি যদি কেউ দেয়
বলো না কিছু তার,
ক্ষমার চোখে দখলে তুমি
পাবেই সঠিক বিচার।”
👉 কেউ গালি দিলে তার জবাবে গালি দেওয়া নয়, বরং চুপ থাকা ও ক্ষমা করাই শ্রেষ্ঠ কাজ। ক্ষমাশীলতার মাধ্যমেই একদিন আল্লাহর কাছ থেকে সঠিক বিচার মিলবে।
---
চতুর্থ স্তবক:
“রব নিজেই ন্যায়বিচারক,
তিনিই দেখেন সব,
ফুরিয়ে যাবে অন্যায়ের দিন
দিতেই হবে হিসাব।। ”
👉 আল্লাহই প্রকৃত ন্যায়বিচারক। তিনি সব দেখেন ও জানেন। অন্যায়কারী যতদিনই অন্যায় করুক, একদিন তার দিন শেষ হবে এবং তাকে হিসাব দিতেই হবে।

---

👉 সারকথা:
এই কবিতার মূল শিক্ষা হলো—রাগ, গালি ও অন্যায়ের মুখেও ধৈর্য ও সহনশীলতা বজায় রাখা উচিত। আল্লাহর উপর ভরসা রাখলে প্রকৃত বিচার ও শান্তি অবশ্যই মিলবে।




শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০২৫

জীবন

জীবন

✍️ তরিকুল ইসলাম খালাসী 
 মধ্যবেনা, বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা)

জীবন তোমার রবের দেওয়া
অশেষ নিয়ামত,
সত্য পথে চললে তিনি
দেয় বরকত।

মিথ্যার পথে গেলে পাবে
ভ্রান্তি আর ক্ষয়,
রবের থেকে মুখ ফেরালে
নাই কারো আশ্রয়।

দুনিয়াটা এক পরীক্ষাগার,
কেটে যাবে দিন,
নেক আমলেই পার হবে
রেখো না তাই ঋণ।

তাওবা করে ফিরো পথে
নয় বেশি সময়,
সুযোগ মতো নাও চেয়ে
নিরব রাতে সেজদায়।

জীবন যেন যায় না বৃথা,
করো কিছু দান,
চলো তুমি সেই পথ ধরে—
যেখানে রহে ঈমান।।

অর্থ/ব্যাখ্যা: 

এই কবিতায় কবি মানুষের জীবনকে আল্লাহর দান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন—সত্য পথে চললে জীবন বরকতময় হয়, আর মিথ্যার পথে গেলে ক্ষতি ছাড়া কিছুই নেই। দুনিয়া হলো ক্ষণস্থায়ী পরীক্ষা, যেখানে নেক আমল করাই মুক্তির উপায়। তাই সুযোগ থাকতে তওবা করতে হবে, দান–খয়রাত করতে হবে এবং ঈমানের পথে চলতে হবে—যেন জীবন বৃথা না যায়।

---
প্রথম স্তবক:
“জীবন তোমার রবের দেওয়া
অশেষ নিয়ামত,
সত্য পথে চললে তিনি
দেয় বরকত।”
👉 জীবন হলো আল্লাহর দেয়া এক অমূল্য নিয়ামত। যদি সত্য পথে চলা যায়, তবে আল্লাহর রহমত ও বরকত নেমে আসে।
---
দ্বিতীয় স্তবক:
“মিথ্যার পথে গেলে পাবে
ভ্রান্তি আর ক্ষয়,
রবের থেকে মুখ ফেরালে
নাই কারো আশ্রয়।”
👉 যদি মিথ্যার পথে যাওয়া হয়, তবে তা ধ্বংস ও ক্ষতির দিকে নিয়ে যায়। আল্লাহর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে কারো আশ্রয় পাওয়া সম্ভব নয়।
---
তৃতীয় স্তবক:
“দুনিয়াটা এক পরীক্ষাগার,
কেটে যাবে দিন,
নেক আমলেই পার হবে
রেখো না তাই ঋণ।”
👉 দুনিয়া হলো ক্ষণস্থায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র। একদিন এই জীবন শেষ হবে। তাই নেক আমলই মুক্তির একমাত্র পথ। পাপের ঋণ জমিয়ে রাখা উচিত নয়।
---
চতুর্থ স্তবক:
“তাওবা করে ফিরো পথে
নয় বেশি সময়,
সুযোগ মতো নাও চেয়ে
নিরব রাতে সেজদায়।”
👉 দেরি না করে তওবা করে আল্লাহর পথে ফিরতে হবে। কারণ সময় সীমিত। রাতের নিরব মুহূর্তে সেজদায় কেঁদে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
---
পঞ্চম স্তবক:
“জীবন যেন যায় না বৃথা,
করো কিছু দান,
চলো তুমি সেই পথ ধরে—
যেখানে রহে ঈমান।। ”
👉 কবি উপদেশ দিচ্ছেন—জীবন বৃথা যেন না যায়। আল্লাহর পথে দান-খয়রাত করতে হবে এবং সেই পথেই চলতে হবে যেখানে ঈমান টিকে থাকে।

---

👉 সারকথা:
এই কবিতায় কবি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন—জীবন হলো রবের দেয়া একটি অমূল্য সুযোগ। এই জীবনের উদ্দেশ্য হলো সত্য পথে চলা, নেক আমল করা, তওবা ও দান-খয়রাতের মাধ্যমে ঈমানকে অটুট রাখা। তাহলেই জীবন হবে সফল, অন্যথায় তা বৃথা হয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই, ২০২৫

শুভাকাঙ্ক্ষী

শুভাকাঙ্ক্ষী
তরিকুল ইসলাম খালাসী
মধ্যবেনা বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা) 

তোমার আমার শুভাকাঙ্ক্ষী
আছে অনেক ভাই,
তাদের ভালোবাসা পেয়ে
হৃদয় ভরে যায়।

কারো সাথে পথ চলেছি
ভালোবাসার টানে,
কারো চোখে মমতা ছিল
নিঃস্বার্থ প্রাণখানে।

তারা সবাই থাকলে দূরেও
ভোলে না এই মন,
তারাই আমার আপন,
তারাই প্রিয় জন।

তাদের তরেই দোয়া করি
নীরব রাতে উঠে,
রব, তুমি হেফাজত করো,
চাই না পাপের ছিঁটে।।

অর্থ/ব্যাখ্যা: 

এই কবিতায় কবি তার জীবনের প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষীদের কথা বলেছেন। যারা তাকে ভালোবাসে, পাশে থেকেছে কিংবা দূরে থেকেও আন্তরিক স্নেহ দিয়েছে—তারা-ই তার আসল আপনজন। কবি তাদের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং আল্লাহর কাছে তাদের হেফাজত প্রার্থনা করেছেন।

---
প্রথম স্তবক:
“তোমার আমার শুভাকাঙ্ক্ষী
আছে অনেক ভাই,
তাদের ভালোবাসা পেয়ে
হৃদয় ভরে যায়।”
👉 কবি জানাচ্ছেন, আমাদের জীবনে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী থাকে। তাদের ভালোবাসা ও আন্তরিকতায় হৃদয় ভরে ওঠে।
---
দ্বিতীয় স্তবক:
“কারো সাথে পথ চলেছি
ভালোবাসার টানে,
কারো চোখে মমতা ছিল
নিঃস্বার্থ প্রাণখানে।”
👉 কেউ ভালোবাসার সম্পর্কে কাছে এসেছে, কেউ বা নিঃস্বার্থ মমতা দেখিয়েছে। এভাবেই শুভাকাঙ্ক্ষীরা জীবনের অংশ হয়ে থাকে।
---
তৃতীয় স্তবক:
“তারা সবাই থাকলে দূরেও
ভোলে না এই মন,
তারাই আমার আপন,
তারাই প্রিয় জন।”
👉 দূরে থাকলেও তাদের স্মৃতি ও ভালোবাসা ভোলা যায় না। তারাই আসল আপনজন, তারাই প্রকৃত প্রিয়জন।
---
চতুর্থ স্তবক:
“তাদের তরেই দোয়া করি
নীরব রাতে উঠে,
রব, তুমি হেফাজত করো,
চাই না পাপের ছিঁটে।। ”
👉 কবি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন—যেন তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা সর্বদা হেফাজতে থাকে, আর কোনো পাপ তাদের ছুঁতে না পারে।

---
👉 সারকথা:
এই কবিতায় কবি জীবনের প্রকৃত সম্পর্কগুলিকে মূল্যায়ন করেছেন। তিনি শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসা ও স্নেহকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে আল্লাহর কাছে তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করেছেন।

বুধবার, ২ জুলাই, ২০২৫

আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি
তরিকুল ইসলাম খালাসী 
মধ্যবেনা বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা) 

দেখে সবাই একই দৃশ্য,
ভাবনায় নেই মিল,
কারো চোখে স্বপ্ন জ্বলে,
কারো চোখে ঝিলমিল।

কেউ পায় সুখের ইঙ্গিত,
কেউ খোঁজে দোষ,
কেউ বোঝে হৃদয়বাণী,
কারো জ্বলে আফসোস।

ঘৃণার চোখে দেখলে সবই
লাগে কেবল কালো,
ভালোবাসার চোখে দেখো—
পাবে আশার আলো।

হিংসা খোঁজে অপবাদে,
ভালোবাসা চায় মন,
দৃষ্টিভঙ্গি বদলালেই
বদলে যায় জীবন।

তাই তো ভাবনা শুদ্ধ করো,
খুলে দাও অন্তর,
নিজের চোখেই বদলে যাবে
এই পৃথিবীর ঘর।।

অর্থ/ব্যাখ্যা: 

এই কবিতায় কবি দেখিয়েছেন যে একই জিনিস মানুষ ভিন্ন ভিন্ন চোখে দেখে। যার দৃষ্টিভঙ্গি যেমন, তার মনে প্রতিফলনও তেমন। কেউ ভালোবাসা দিয়ে পৃথিবীকে দেখে আশা খুঁজে পায়, আবার কেউ ঘৃণা ও হিংসার কারণে শুধু অন্ধকার দেখে। তাই কবি আহ্বান জানিয়েছেন—মনকে শুদ্ধ করো, দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাও; তাহলেই জীবন ও পৃথিবী বদলে যাবে।

---
প্রথম স্তবক:
“দেখে সবাই একই দৃশ্য,
ভাবনায় নেই মিল,
কারো চোখে স্বপ্ন জ্বলে,
কারো চোখে ঝিলমিল।”
👉 মানুষ সবাই একই জিনিস দেখে, কিন্তু ভাবনার ভিন্নতার কারণে অনুভূতি আলাদা হয়। কেউ আশা দেখে, কেউ আনন্দ খুঁজে পায়।
---
দ্বিতীয় স্তবক:
“কেউ পায় সুখের ইঙ্গিত,
কেউ খোঁজে দোষ,
কেউ বোঝে হৃদয়বাণী,
কারো জ্বলে আফসোস।”
👉 কেউ সুখ ও ইতিবাচকতা খুঁজে পায়, কেউ আবার শুধু দোষ খোঁজে। কেউ অন্তরের বার্তা বোঝে, আবার কারো মনে আফসোস জ্বলে।
---
তৃতীয় স্তবক:
“ঘৃণার চোখে দেখলে সবই
লাগে কেবল কালো,
ভালোবাসার চোখে দেখো—
পাবে আশার আলো।”
👉 ঘৃণা দিয়ে দেখলে সব কিছু অন্ধকার লাগে। কিন্তু ভালোবাসার চোখে পৃথিবী আলো আর আশায় ভরে ওঠে।
---
চতুর্থ স্তবক:
“হিংসা খোঁজে অপবাদে,
ভালোবাসা চায় মন,
দৃষ্টিভঙ্গি বদলালেই
বদলে যায় জীবন।”
👉 হিংসা শুধু অন্যায় আর অপবাদ খুঁজে, কিন্তু ভালোবাসা মন খোঁজে। আর যদি দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানো যায়, তবে জীবনই বদলে যায়।
---
পঞ্চম স্তবক:
“তাই তো ভাবনা শুদ্ধ করো,
খুলে দাও অন্তর,
নিজের চোখেই বদলে যাবে
এই পৃথিবীর ঘর।। ”
👉 কবি উপদেশ দিচ্ছেন—ভাবনা পরিষ্কার করো, হৃদয় খুলো। দৃষ্টিভঙ্গি বদলালে তোমার চোখেই পৃথিবী সুন্দর হয়ে উঠবে।

---

👉 সারকথা:
এই কবিতার মূল শিক্ষা হলো—পৃথিবীকে যেমনভাবে দেখা হয়, সেটাই আমাদের মনে প্রতিফলিত হয়। তাই দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক হলে জীবনও সুন্দর হয়।

মনের জং

মনের জং
তরিকুল ইসলাম খালাসী 
মধ্যবেনা বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা)

মনে যদি জং ধরে যায়
হৃদয় হবে কালো,
কেমন করে রাখবে তুমি
মনটাকে ভালো?

অভিমান আর হিংসার তোমার
হৃদয় কুরে খায়,
দুঃখে ভরে মনটা তখন
ভালবাসা মুছে যায়।

অসৎ ভাবনা তোমার আমার
হৃদয় করে ভার,
ভালো স্বপ্ন দেখতে হলে
মন করো পরিষ্কার।

ক্ষমার বাতাসে, মমতার রৌদ্রে
মরিচা করো দূর,
দেখবে তখন জীবন হবে
ভালোবাসায় ভরপুর।। 

অর্থ/ব্যাখ্যা: 

এই কবিতায় কবি মানুষের অন্তরের দূষণ বা খারাপ চিন্তার কথা বলেছেন। অভিমান, হিংসা, অসৎ চিন্তা—এসব মনকে মরিচার মতো গ্রাস করে, যার ফলে ভালোবাসা ও শান্তি মুছে যায়। তাই কবি বলেছেন, ক্ষমা ও মমতার আলোয় মনকে শুদ্ধ করতে হবে, তাহলেই জীবন ভরে উঠবে ভালোবাসায়।

---
প্রথম স্তবক:
“মনে যদি জং ধরে যায়
হৃদয় হবে কালো,
কেমন করে রাখবে তুমি
মনটাকে ভালো?”
👉 কবি প্রশ্ন তুলছেন—যদি মন খারাপ চিন্তা আর দূষণে ভরে যায়, তবে হৃদয় অন্ধকার হয়ে যাবে। তখন মনকে ভালো রাখা সম্ভব নয়।
---
দ্বিতীয় স্তবক:
“অভিমান আর হিংসার তোমার
হৃদয় কুরে খায়,
দুঃখে ভরে মনটা তখন
ভালবাসা মুছে যায়।”
👉 অভিমান ও হিংসা মানুষের হৃদয়কে গ্রাস করে। তখন মন দুঃখে ভারী হয়ে যায়, আর ভালোবাসা হারিয়ে যায়।
---
তৃতীয় স্তবক:
“অসৎ ভাবনা তোমার আমার
হৃদয় করে ভার,
ভালো স্বপ্ন দেখতে হলে
মন করো পরিষ্কার।”
👉 অসৎ চিন্তা মনকে ভারাক্রান্ত করে তোলে। কিন্তু ভালো স্বপ্ন দেখতে চাইলে মনকে পরিষ্কার করতে হবে।
---
চতুর্থ স্তবক:
“ক্ষমার বাতাসে, মমতার রৌদ্রে
মরিচা করো দূর,
দেখবে তখন জীবন হবে
ভালোবাসায় ভরপুর।। ”
👉 কবি সমাধান দিচ্ছেন—ক্ষমা ও মমতা হলো সেই শক্তি, যা মনের মরিচা দূর করতে পারে। যখন মন পরিষ্কার হবে, তখন জীবন ভরে উঠবে ভালোবাসায়।

---
👉 সারকথা:
এই কবিতার মূল শিক্ষা হলো—অভিমান, হিংসা ও অসৎ চিন্তা দূর করে ক্ষমা ও মমতার মাধ্যমে মনকে শুদ্ধ করলে জীবন শান্তি ও ভালোবাসায় ভরে উঠবে।


মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০২৫

ব্যক্তিত্ব

ব্যক্তিত্ব 
তরিকুল ইসলাম খালাসী
মধ্যবেনা বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা) 

নিজস্বতা হারিয়ে গেলে
হারিয়ে যাবে সুখ,
পদে পদে ভাঙবে তখন
আশা ভরা বুক।

সাহস রেখে রাখো তুমি
ওদের চোখে চোখ,
ওরা জানুক তুমি সদা
সত্য পথের লোক।

ভিড়ের মাঝে গা ভাসালে
পাল্টে যাবে রঙ,
তোমার হারিয়ে যাবে ব্যক্তিত্ব
পড়বে শুধুই জং।

চলনে তাই থাক দৃঢ়তা,
বলনেও হোক বাঁধন,
ভিতর যত থাকবে সৎ
হবে ফুলের মতন। 

চেহারাতে যায় না চেনা 
ভেতরের ওই মন, 
ব্যক্তিত্ব গড়তে হলে 
আগে গড়ো এই জীবন ।। 

অর্থ/ব্যাখ্যা: 

এই কবিতায় কবি ব্যক্তিত্বের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন—নিজস্বতা, সাহস, সত্যের প্রতি অটলতা, সৎ জীবনযাপন—এসবই ব্যক্তিত্ব গঠনের মূল উপাদান। বাহ্যিক চেহারার চেয়ে ভেতরের গুণই আসল পরিচয়।

---
প্রথম স্তবক:
“নিজস্বতা হারিয়ে গেলে
হারিয়ে যাবে সুখ,
পদে পদে ভাঙবে তখন
আশা ভরা বুক।”
👉 মানুষ যদি নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলে, তবে সুখও হারিয়ে যায়। আশা ও আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়ে।
---
দ্বিতীয় স্তবক:
“সাহস রেখে রাখো তুমি
ওদের চোখে চোখ,
ওরা জানুক তুমি সদা
সত্য পথের লোক।”
👉 ব্যক্তিত্ববান হতে হলে সত্যকে আঁকড়ে ধরতে হবে। সাহস নিয়ে চোখে চোখ রেখে দাঁড়াতে হবে, যাতে মানুষ বোঝে—তুমি সত্যের পথে চলা একজন সৎ মানুষ।
---
তৃতীয় স্তবক:
“ভিড়ের মাঝে গা ভাসালে
পাল্টে যাবে রঙ,
তোমার হারিয়ে যাবে ব্যক্তিত্ব
পড়বে শুধুই জং।”
👉 ভিড়ের সঙ্গে ভেসে গেলে নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে যাবে। তখন তোমার ব্যক্তিত্ব নষ্ট হবে, আর জীবনে মরিচা ধরবে।
---
চতুর্থ স্তবক:
“চলনে তাই থাক দৃঢ়তা,
বলনেও হোক বাঁধন,
ভিতর যত থাকবে সৎ
হবে ফুলের মতন।”
👉 তোমার আচরণে দৃঢ়তা থাকতে হবে, কথাতেও শৃঙ্খলা। অন্তরে সততা থাকলে জীবন ফুলের মতো সুন্দর হয়ে উঠবে।
---
পঞ্চম স্তবক:
“চেহারাতে যায় না চেনা
ভেতরের ওই মন,
ব্যক্তিত্ব গড়তে হলে
আগে গড়ো এই জীবন ।।”
👉 আসল ব্যক্তিত্ব চেহারায় নয়, হৃদয় ও জীবনের ভেতরে। তাই ব্যক্তিত্ব গড়তে হলে প্রথমে সৎ ও নৈতিক জীবন গড়তে হবে।

---
👉 সারকথা:
এই কবিতার মূল শিক্ষা হলো—সাহস, সত্যবাদিতা, সততা ও স্বকীয়তা ব্যক্তিত্বের আসল শক্তি। বাহ্যিক চেহারার নয়, বরং ভেতরের জীবনযাপনেই ব্যক্তিত্বের ভিত্তি গড়ে ওঠে।





ভদ্রতা

ভদ্রতা
তরিকুল ইসলাম খালাসী
মধ্যবেনা বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা) 

ভদ্র ভাষায় কথা বলো,
গলে যাবে মন,
দূরের মানুষ বিভেদ ভুলে
হবে আপনজন।

নম্র আচরণে জয় করা যায়
হৃদয়ের রাজত্ব,
এই অহংকারে হারায় মানুষ
আপন ব্যক্তিত্ব।

কঠিন দিনেও হাসিমুখে
দিও তুমি বিদায়,
দেখবে তখন তোমার তরে
ওরাই দেবে হৃদয়।

এই দয়া, মায়া, ভালোবাসা —
ভদ্রতারই চিহ্ন,
এ সব কিছুই রব দিয়েছেন
মানুষেরই জন্য।। 

অর্থ/ব্যাখ্যা: 

এই কবিতায় কবি ভদ্রতার মাহাত্ম্য তুলে ধরেছেন। ভদ্রতা মানুষকে একে অপরের কাছাকাছি আনে, সম্পর্ককে দৃঢ় করে। নম্রতা, ভালোবাসা, দয়া—এসব গুণই মানুষকে প্রকৃত অর্থে সুন্দর করে তোলে।

---
প্রথম স্তবক:
“ভদ্র ভাষায় কথা বলো,
গলে যাবে মন,
দূরের মানুষ বিভেদ ভুলে
হবে আপনজন।”
👉 ভদ্রভাবে কথা বললে কঠিন মনও নরম হয়ে যায়। ভদ্রতা মানুষের দূরত্ব ঘোচায়, অপরিচিতকেও আপন করে তোলে।
---
দ্বিতীয় স্তবক:
“নম্র আচরণে জয় করা যায়
হৃদয়ের রাজত্ব,
এই অহংকারে হারায় মানুষ
আপন ব্যক্তিত্ব।”
👉 নম্রতা দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করা যায়। কিন্তু অহংকার মানুষের ব্যক্তিত্বকে নষ্ট করে দেয়।
---
তৃতীয় স্তবক:
“কঠিন দিনেও হাসিমুখে
দিও তুমি বিদায়,
দেখবে তখন তোমার তরে
ওরাই দেবে হৃদয়।”
👉 জীবনের কষ্টেও যদি ভদ্রতা আর হাসিমুখ বজায় রাখা যায়, তবে মানুষ তোমাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসবে।
---
চতুর্থ স্তবক:
“এই দয়া, মায়া, ভালোবাসা —
ভদ্রতারই চিহ্ন,
এ সব কিছুই রব দিয়েছেন
মানুষেরই জন্য।। ”
👉 দয়া, মায়া ও ভালোবাসা ভদ্রতার প্রধান লক্ষণ। এগুলো স্রষ্টার দান, যা মানুষের জীবনে সৌন্দর্য যোগ করে।

---
👉 সারকথা:
এই কবিতার মূল শিক্ষা হলো—ভদ্রতা ও নম্রতা মানুষের আসল সৌন্দর্য। ভদ্র ব্যবহারে মন জয় হয়, সম্পর্ক দৃঢ় হয়, আর অহংকার শুধু মানুষকে একা করে দেয়।

Featured Post

এই ভারতে মুসলিমদের অবদান

এই ভারতে মুসলিমদের অবদান  তরিকুল ইসলাম খালাসী  মধ্যবেনা বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা)  মাথা তুলে বলি আজ ইতিহাসের গান,  এই ভারতে আছে দেখো  মুসল...