মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬

চলনা চলনা চলনা চল

চলনা চলনা চলনা চল
তরিকুল ইসলাম খালাসী 
মধ্যবেনা, বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা) 

চলনা চলনা চলনা চল,
সত্যের পথে চলনা চল।
অন্যায় দেখে চুপ না থেকে,
উঁচু করো কণ্ঠের বল।
চলনা চলনা চলনা চল,
ভেঙে দাও সব মিথ্যার জাল।
মানুষ যেন মানুষ থাকে,
এই হোক আজ সবার খেয়াল। 
চলনা চলনা চলনা চল,
সত্যের পথে চলনা চল।
অন্যায় দেখে চুপ না থেকে,
উঁচু করো কণ্ঠের বল। 
উঁচু করো কণ্ঠের বল। 

ক্ষুধার জ্বালায় কাঁদে যে জন,
শুনছে না কেউ তারই ক্রন্দন,
ক্ষুধার জ্বালায় কাঁদে যে জন,
শুনছে না কেউ তারই ক্রন্দন,
তাদের পক্ষে দাঁড়াও আজি,
জাগুক ন্যায়ের আন্দোলন। 
জাগুক ন্যায়ের আন্দোলন।  

চলনা চলনা চলনা চল,
মাথা নত করে কভু না চল।
সত্য যদি থাকে সাথে,
জয়ের পথে এগিয়ে চল। 
চলনা চলনা চলনা চল,
সত্যের পথে চলনা চল।
অন্যায় দেখে চুপ না থেকে,
উঁচু করো কণ্ঠের বল।  

শ্রমিক ঘামে গড়ে যে দেশ,
অবহেলায় ভরা সে দেশ।
শ্রমিক ঘামে গড়ে যে দেশ,
অবহেলায় ভরা সে দেশ।
রক্ত-ঘামে ভাঙে শরীর,
নেই তার কোনো মূল্যায়ন।
নেই তার কোনো মূল্যায়ন। 

চলনা চলনা চলনা চল, 
সুদিন ফিরিয়ে আনতে চল।  
সত্যের পথে আলো জ্বেলে 
ভাঙবো জুলুমবাজির সব শিকল ।
চলনা চলনা চলনা চল,
সত্যের পথে চলনা চল।
অন্যায় দেখে চুপ না থেকে,
উঁচু করো কণ্ঠের বল।  

চলনা চলনা চলনা চল,
চলনা চলনা চলনা চল।
চলনা চলনা চলনা চল,
চলনা চলনা চলনা চল।
চলনা চলনা চলনা চল,
চলনা চলনা চলনা চল।
চলনা চলনা চলনা চল,
চলনা চলনা চলনা চল............।

রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

বিষয়: শিক্ষা, চরিত্র ও তাকওয়া: সফল জীবনের ভিত্তি

বিষয়: শিক্ষা, চরিত্র ও তাকওয়া: সফল জীবনের ভিত্তি 

বক্ততা- তরিকুল ইসলাম খালাসী 

সময় 5:00
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
সম্মানিত উপস্থিতি,  
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। 

আজ আমি সংক্ষেপে "শিক্ষা, চরিত্র ও তাকওয়া: সফল জীবনের ভিত্তি" বিষয়ে কিছু কথা বলার চেষ্টা করবো। 

মানুষ জীবনে সফল হতে চায়। 
কেউ চায় ভালো চাকরি, কেউ চায় সম্মান, কেউ চায় সুখ ও শান্তি। কিন্তু প্রকৃত সফলতা অর্জনের জন্য তিনটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

আর তা হলো শিক্ষা, চরিত্র ও তাকওয়া।

প্রথমত, শিক্ষা। 
শিক্ষা মানুষকে জ্ঞান দেয়, সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে শেখায়। শিক্ষাহীন মানুষ অনেক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। 

ইসলামও জ্ঞান অর্জনের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা ওহীর প্রথম শব্দ হিসেবে নাজিল করেছেন, "ইকরা" অর্থাৎ "পড়ো"। তাই আমাদের উচিত দুনিয়াবি শিক্ষার পাশাপাশি কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞান অর্জন করা। 

দ্বিতীয়ত, চরিত্র। 
একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার চরিত্রে প্রকাশ পায়। অর্থ, পদ বা ক্ষমতা মানুষকে বড় করে না, বরং উত্তম চরিত্রই মানুষকে মানুষের হৃদয়ে স্থান দেয়। 
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন উত্তম চরিত্রের সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা, দয়া ও নম্রতার মাধ্যমে মানুষের মন জয় করেছিলেন। তাই আমাদেরও সুন্দর চরিত্র গঠনের চেষ্টা করতে হবে।

তৃতীয়ত, তাকওয়া। 
তাকওয়া হলো আল্লাহর ভয় ও তাঁর নির্দেশ মেনে চলার মানসিকতা। 
মানুষ যত শিক্ষিতই হোক বা যত ভালো চরিত্রের অধিকারী হোক, যদি তার মধ্যে তাকওয়া না থাকে, তাহলে সে ভুল পথে চলে যেতে পারে। তাকওয়া মানুষকে অন্যায়, পাপ ও অবিচার থেকে রক্ষা করে। 
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত সেই ব্যক্তি, যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান।

প্রিয় উপস্থিতি,
শিক্ষা আমাদের আলোকিত করে, চরিত্র আমাদের মর্যাদা দেয়, আর তাকওয়া আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করে। এই তিনটি গুণ একসঙ্গে থাকলে একজন মানুষ দুনিয়া ও আখিরাত উভয় ক্ষেত্রেই সফল হতে পারে।

তাই আসুন, আমরা জ্ঞান অর্জন করি, সুন্দর চরিত্র গঠন করি এবং আল্লাহভীতি ও তাকওয়ার জীবন গড়ে তুলি। তাহলেই আমরা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারব ইনশাআল্লাহ। 

সবশেষে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আমাদের সবাইকে শিক্ষিত, চরিত্রবান ও তাকওয়াবান মানুষ হিসেবে কবুল করেন। আমীন 

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬

এই ভারতে মুসলিমদের অবদান

এই ভারতে মুসলিমদের অবদান 
তরিকুল ইসলাম খালাসী 
মধ্যবেনা বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা) 

মাথা তুলে বলি আজ
ইতিহাসের গান, 
এই ভারতে আছে দেখো 
মুসলিমদেরই অবদান । 

মাথা তুলে বলি আজ
ইতিহাসের গান, 
এই ভারতে আছে দেখো 
মুসলিমদেরই অবদান । 

আজাদ জ্বালায় শিক্ষার আলো
জাগায় দেশের প্রাণ,
কালাম ছুঁয়ে আকাশ বলে
দেখো স্বপ্ন চলমান । 

আজাদ জ্বালায় শিক্ষার আলো
জাগায় দেশের প্রাণ,
কালাম ছুঁয়ে আকাশ বলে
দেখো স্বপ্ন চলমান । 
সৈয়দ সাহেব পথ দেখালেন 
আজও পথটা বিরাজমান, 
এই ভারতে আছে দেখো 
মুসলিমদেরই অবদান । 

মাথা তুলে বলি আজ
ইতিহাসের গান, 
এই ভারতে আছে দেখো 
মুসলিমদেরই অবদান । 

আশফাক দিল প্রাণের দামে
দেখো স্বাধীনতার মান,
জাকির হোসেন গড়লেন দেশে
ওই শিক্ষারই সম্মান। 

আশফাক দিল প্রাণের দামে
দেখো স্বাধীনতার মান,
জাকির হোসেন গড়লেন দেশে
ওই শিক্ষারই সম্মান।  
গালিবের সেই কথার ভাঁজে 
ভালোবাসার টান,
এই ভারতে আছে দেখো 
মুসলিমদেরই অবদান । 

মাথা তুলে বলি আজ
ইতিহাসের গান, 
এই ভারতে আছে দেখো 
মুসলিমদেরই অবদান ।  

এই ভারতে আছে দেখো 
মুসলিমদেরই অবদান ।  

এই ভারতে আছে দেখো 
মুসলিমদেরই অবদান..... ।।

শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬

ইরান জিন্দাবাদ

ইরান জিন্দাবাদ 
তরিকুল ইসলাম খালাসী 
মধ্যবেনা বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা) 

ইরান জিন্দাবাদ, ইরান জিন্দাবাদ, 
ইরান জিন্দাবাদ, ইরান জিন্দাবাদ,

ইরান জিন্দাবাদ, ইরান জিন্দাবাদ, 
ইরান জিন্দাবাদ, ইরান জিন্দাবাদ, 

মাতা উঁচু করে
দাঁড়িয়েছে ওই ইরান, 
দেখো দেখো বিশ্ববাসী 
দেখো মুসলমান । 

মাতা উঁচু করে 
দাঁড়িয়েছে ওই ইরান, 
 দেখো দেখো বিশ্ববাসী 
দেখো মুসলমান । 
কাপুরুষের নয় বিজয়, 
কাপুরুষের নয় বিজয়, 
বিজয় শুধু তাদের তরে 
যাদের থাকে ঈমান । 
ইরান জিন্দাবাদ, ইরান জিন্দাবাদ, 
ইরান জিন্দাবাদ, ইরান জিন্দাবাদ,  

ইরান জিন্দাবাদ, ইরান জিন্দাবাদ, 
ইরান জিন্দাবাদ, ইরান জিন্দাবাদ,  

যুদ্ধ শুধু ভয় করা নয় 
ঐক্যের ওই ডাক, 
রুখতে হবে স্বৈরাচারের 
জীবন যত যায় যাক ।

যুদ্ধ শুধু ভয় করা নয় 
ঐক্যের ওই ডাক, 
রুখতে হবে স্বৈরাচারের 
জীবন যত যায় যাক ।
রবের আদেশ মানতে সদা  
রবের আদেশ মানতে সদা 
প্রস্তুত এই ইরান, 
বিজয় শুধু তাদের তরে 
যাদের থাকে ঈমান । 
ইরান জিন্দাবাদ, ইরান জিন্দাবাদ, 
ইরান জিন্দাবাদ, ইরান জিন্দাবাদ,   

ইরান জিন্দাবাদ, ইরান জিন্দাবাদ, 
ইরান জিন্দাবাদ, ইরান জিন্দাবাদ,    

মাতা উঁচু করে
দাঁড়িয়েছে ওই ইরান, 
দেখো দেখো বিশ্ববাসী 
দেখো মুসলমান ।  
দেখো দেখো বিশ্ববাসী 
দেখো মুসলমান ।
ইরান জিন্দাবাদ, ইরান জিন্দাবাদ, 
ইরান জিন্দাবাদ, ইরান জিন্দাবাদ,   

ইরান জিন্দাবাদ, ইরান জিন্দাবাদ, 
ইরান জিন্দাবাদ, ইরান জিন্দাবাদ ।।

মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

অধিকার

অধিকার 
তরিকুল ইসলাম খালাসী 
মধ্যবেনা বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা) 

অধিকার নিয়ে কথা বলা 
যদি হয় আমাদের অপরাধ, 
সেই অপরাধে হোকনা ফাঁসি 
তবু করে যাব প্রতিবাদ । 
তবু করে যাব প্রতিবাদ । 

অধিকার নিয়ে কথা বলা 
যদি হয় আমাদের অপরাধ, 
সেই অপরাধে হোকনা ফাঁসি 
তবু করে যাব প্রতিবাদ । 
তবু করে যাব প্রতিবাদ ।  

আমার দেশের মান-সম্মান নিয়ে  
করছে যারা ছিনিমিনি, 
তাদেরকে রুখতে এসো বন্ধু 
চিনি আমরা তাদের চিনি । 
বন্ধু রূপের ওই শত্রুকে
বন্ধু রূপের ওই শত্রুকে 
করতে হবে এবার কাত্ । 
সেই অপরাধে হোকনা ফাঁসি 
তবু করে যাব প্রতিবাদ । 
তবু করে যাব প্রতিবাদ ।  

অধিকার নিয়ে কথা বলা 
যদি হয় আমাদের অপরাধ, 
সেই অপরাধে হোকনা ফাঁসি 
তবু করে যাব প্রতিবাদ । 
তবু করে যাব প্রতিবাদ ।  

সময় এসেছে সময় এসেছে 
করো না তাই হেলা, 
তাগুতের অন্তরে দাও ধরিয়ে 
জ্বলুক বিদায়ের জ্বালা । 
সেই জ্বালাকে রুখতে ও ভাই 
সবাই রাখি হাতে হাত । 
সেই অপরাধে হোকনা ফাঁসি 
তবু করে যাব প্রতিবাদ । 
তবু করে যাব প্রতিবাদ ।  

অধিকার নিয়ে কথা বলা 
যদি হয় আমাদের অপরাধ, 
সেই অপরাধে হোকনা ফাঁসি 
তবু করে যাব প্রতিবাদ । 
তবু করে যাব প্রতিবাদ ।। 



রোজা ও আত্মসংযম

বিষয়: রোজা ও আত্মসংযম 
বক্তা: তরিকুল ইসলাম খালাসী 
স্থান: যশাইকাটি, পশ্চিম পাড়া 
সময়: 10 মিনিট 

আ‘উযু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

সম্মানিত জেলা নাজিম, সহকারী জেলা নাজিম, তবিয়তে ইনচার্জ, দাওয়াতি ইনচার্জ, সহ উপস্থিত শিক্ষকবৃন্দ এবং আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। 

আজ আমি যে বিষয়টি নিয়ে আপনাদের সামনে কথা বলতে চাই, তা হলো রোজা ও আত্মসংযম। 

 এই দুইটি বিষয় একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। রোজা শুধু উপবাস থাকার নাম নয়, বরং এটি মানুষের চরিত্র গঠনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। 

আমরা জানি, ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হলো রোজা। কিন্তু রোজার উদ্দেশ্য কী? আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন, “তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” অর্থাৎ রোজার মূল লক্ষ্য হলো আত্মসংযম, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং আল্লাহভীতির চর্চা। 

রোজার মাধ্যমে আমরা দিনের বেলা খাবার, পানি ও বৈধ কিছু চাহিদা থেকেও বিরত থাকি। প্রশ্ন হলো, কেন? এর মাধ্যমে আমাদের শেখানো হয় কীভাবে নিজের ইচ্ছা ও প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। মানুষ সাধারণত যা চায়, তা সঙ্গে সঙ্গে পেতে অভ্যস্ত। কিন্তু রোজা আমাদের শেখায় ধৈর্য ধরতে, অপেক্ষা করতে এবং সীমা মানতে। 

আত্মসংযম মানে শুধু না খাওয়া বা না পান করা নয়। আত্মসংযম মানে হলো রাগ সংযত করা, খারাপ কথা বলা থেকে বিরত থাকা, মিথ্যা, গিবত ও অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি রোজা রেখেও মিথ্যা কথা ও খারাপ কাজ ছাড়ে না, আল্লাহর কাছে তার শুধু না খেয়ে থাকার কোনো মূল্য নেই।” 

এই হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি, রোজার আসল শিক্ষা হলো চরিত্র সংশোধন। রোজা আমাদের ভেতরের মানুষটিকে শুদ্ধ করে।
আজকের সমাজে আমরা লক্ষ্য করি, মানুষ খুব সহজেই রেগে যায়, ধৈর্য হারায়, অন্যের কষ্ট বোঝে না। আত্মসংযমের অভাব আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে নানা সমস্যার সৃষ্টি করছে। রোজা এই জায়গাতেই আমাদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ হিসেবে কাজ করে। 

রোজা আমাদের সহানুভূতিশীল করে তোলে। যখন আমরা ক্ষুধা ও তৃষ্ণা অনুভব করি, তখন দরিদ্র মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও উপলব্ধি করতে পারি। তখন আমাদের মনে দয়া জন্মায়, সাহায্যের মানসিকতা তৈরি হয়। এই অনুভূতিই একজন মানুষকে প্রকৃত অর্থে মানবিক করে তোলে।
রোজার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো নিয়মানুবর্তিতা। নির্দিষ্ট সময়ে সেহরি খাওয়া, নির্দিষ্ট সময়ে ইফতার করা, নামাজ আদায় করা, কুরআন তিলাওয়াত করা। এই শৃঙ্খলা আমাদের পুরো জীবনে প্রভাব ফেলে। একজন সংযমী ও নিয়ম মেনে চলা মানুষ জীবনে সফল হতে পারে।
কিন্তু আমাদের একটি প্রশ্ন নিজেকে করা উচিত। রমজান শেষ হওয়ার পর আমরা কতটুকু এই আত্মসংযম ধরে রাখতে পারি? রোজা কি শুধু একটি মাসের জন্য, নাকি সারা জীবনের জন্য একটি শিক্ষা? 

যদি রমজান শেষে আমরা আবার আগের অভ্যাসে ফিরে যাই, তাহলে আমাদের রোজার উদ্দেশ্য পূর্ণ হয় না। প্রকৃত সফলতা তখনই, যখন রোজার শিক্ষা আমাদের কথা, কাজ ও আচরণে প্রতিফলিত হয়। 

তাই, 
সবশেষে বলতে চাই, রোজা আমাদের দুর্বলতা মনে করিয়ে দেয় এবং শক্তিশালী করে তোলে আমাদের আত্মাকে। আত্মসংযমের মাধ্যমে আমরা ভালো মানুষ হতে পারি, ভালো মুসলিম হতে পারি এবং একটি সুন্দর সমাজ গড়তে পারি।
আসুন, আমরা সবাই রোজার শিক্ষা শুধু পালনেই সীমাবদ্ধ না রেখে, তা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করি। 

আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সবাইকে রোজার প্রকৃত শিক্ষা বোঝার এবং আত্মসংযমের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করেন। 

আমিন।
ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। 

বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬

রুখে দেই এসো

রুখে দেই এসো 
তরিকুল ইসলাম খালাসী 
মধ্যবেনা বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা) 

রুখে দেই এসো, মুছে দেই এসো,
অন্যায় যত জুলুম।
মন খুলে হাসো, পাশে এসে বসো,
আনন্দিত হোক মজলুম। 

মিথ্যে কথা সত্য সাজিয়ে
চালায় যারা রাজপ্রাসাদ, 
রুখতে তাদের জেগে ওঠো 
করো সবাই শপথ । 
আনতে সুদিন গড়তে জমিন 
থেকোনা ও ভাই নিঝুম ।  
মন খুলে হাসো, পাশে এসে বসো,
আনন্দিত হোক মজলুম।  

রুখে দেই এসো, মুছে দেই এসো,
অন্যায় যত জুলুম।
মন খুলে হাসো, পাশে এসে বসো,
আনন্দিত হোক মজলুম। 

ন্যায়নীতির পথে অবিচল থেকে 
গড়বো দেশের মাটি, 
আমার দেশের মাটি হবে 
সোনার থেকেও খাঁটি ।
সেই আশাতেই পথে নামো ভাই 
দেরি করোনা একদম । 
মন খুলে হাসো, পাশে এসে বসো,
আনন্দিত হোক মজলুম। 

রুখে দেই এসো, মুছে দেই এসো,
অন্যায় যত জুলুম।
মন খুলে হাসো, পাশে এসে বসো,
আনন্দিত হোক মজলুম।  


রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬

এসো হাতে হাত রেখে


এসো হাতে হাত রেখে 
তরিকুল ইসলাম খালাসী 
মধ্যবেনা বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা) 

এসো হাতে হাত রেখে
প্রতিবাদ করি বন্ধু,
সত্যের পথ থেকে
পিছু হটবো না একবিন্দু। 

এসো অন্যায় রুখে দিতে
আওয়াজ তুলি একসাথে,
এই দেশের মসনদ 
সত্যের পথে নিতে ।  
এই দেশের অধিকার 
যারা নীতিবান শিষ্টাচার  
সে হোক মুসালমান হিন্দু ।
পিছু হটবো না একবিন্দু। 

এসো হাতে হাত রেখে
প্রতিবাদ করি বন্ধু,
সত্যের পথ থেকে
পিছু হটবো না একবিন্দু।  

এসো সুখে দুঃখে পাশে থাকি 
নিন্দুক কে দূরে রাখি, 
এই দেশের বিশুদ্ধ হওয়া 
আমরা সবাই গাই মাখি । 
ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে 
ভালোবাসা সঙ্গে নিয়ে 
হাতে হাত রেখে চলি বন্ধু ।
পিছু হটবো না একবিন্দু।  

এসো হাতে হাত রেখে
প্রতিবাদ করি বন্ধু,
সত্যের পথ থেকে
পিছু হটবো না একবিন্দু।।








শোনো কমিশন

শোনো কমিশন 
তরিকুল ইসলাম খালাসী 
মধ্যবেনা বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা) 

শুনো কমিশন, শুনো রাষ্ট্র
ভয় দেখিয়ে করলে শাসন,
ছাড়বেনা আর জনগণ।
বে-আইনি করবা যারে 
তার ভোটে ওই সরকারে  
আহা দিয়েছিলে বড় বড় ভাষণ, 
তুমি দিয়েছিলে বড় বড় ভাষণ ।

নামের ভুলে আজকে যারে 
তুমি অপরাধী বানাও, 
এই মাটিতেই জন্ম তাহার 
কেমনে ভুলে যাও ! 
তোমার মুখোশটাকে খুইলা দেবে  
শকুন চোখো তুইলা নেবে 
শোনো এবার জনগণ । 
আহা দিয়েছিলে বড় বড় ভাষণ, 
তুমি দিয়েছিলে বড় বড় ভাষণ ।
শুনো কমিশন...........  

ভয় দেখিয়ে আর কতক্ষণ 
চলবে যুলুম শাসন, 
দিকে দিকে মানুষ দেখো 
ক্ষুব্ধ ভীষণ ভীষণ । 
দেশটা তোমার বাবার নয় 
তুমি কারে দেখাও ভয় 
ধরবে এবার জনগণ ।
আহা দিয়েছিলে বড় বড় ভাষণ, 
তুমি দিয়েছিলে বড় বড় ভাষণ ।
শুনো কমিশন........... ।। 



মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫

রহমতের দ্বারে

রহমতের দ্বারে
তরিকুল ইসলাম খালাসী
মধ্যবেনা, বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা) 

তোমার দ্বারে আমি চাইগো বারেবারে
হে পরওয়ারদিগার,
তুমি ছাড়া আমার নেইকো মালিক
হে গফুর ও গফফার।

তোমার রহম পেতে তুলি দুটি হাত
লুটিয়ে যাই সাজদায়,
চাওয়া-পাওয়া সব তোমারি দরবারে
তাই শুধুই চেয়ে যাই।
তুমি ছাড়া আমার নেইকো দেবার কেউ
হায়াতে তাইয়্যেবা’র। 
তোমার দ্বারে আমি …

তোমার আরশের নীচে ছায়া পেতে
ব্যাকুল হয় মন,
আমি ধন্য হবো পেলে দিদার
এই দুই নয়ন।
বর তুমি ছাড়া নেইকো মালিক
এই দুনিয়ার ।
তোমার দ্বারে আমি … 

শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

মাদ্রাসা আর রাইহান

মাদ্রাসা আর রাইহান 
তরিকুল ইসলাম খালাসী 
মধ্যবেনা বাদুড়িয়া (কলকাতা) 

আর রাইহান.. আর রাইহান.. 
আর রাইহান.. আর রাইহান.. 
মাদ্রাসা আর রাইহান 
তোমায় করে আহবান ।  

এসো বন্ধু এসো শিখতে কুরআন 
শিখতে নবীর বাণী, 
আর রাইহান করে আহবান  
করতে তোমায় জ্ঞানী । 
আর রাইহান.. আর রাইহান.. 
আর রাইহান.. আর রাইহান.. 
মাদ্রাসা আর রাইহান 
তোমায় করে আহবান ।  

আলোর পথে হাঁটবে সদা
এই করছে পণ,
আর রাইহান যুগের সেরা
করেছে শিক্ষার আয়োজন ।
আর রাইহান.. আর রাইহান.. 
আর রাইহান.. আর রাইহান.. 
মাদ্রাসা আর রাইহান 
তোমায় করে আহবান ।। 









বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫

তোমাকে ভুলি কেমন করে

তোমাকে ভুলি কেমন করে 
তরিকুল ইসলাম খালাসী 
মধ্যবেনা বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা) 

ও রব... 
তোমাকে ভুলি কেমন করে,  
না চাইতে তুমি দিয়েছো ঢেলে সব  
সবই মোদের তরে । 

তোমারও দয়া তোমারও মায়া 
পায় সকল সৃষ্টিকুল, 
আমরা মানুষ যায় করে 
বারেবারে শত ভুল। 

তবুও তুমি রিজিক দিতে  
যাওনা ভুলে মোদের তরে, 
নত হই তাই যায় সেজদায় 
ডাকি তোমায় মন ভরে । 
ও রব... 
তোমাকে ভুলি কেমন করে,  
না চাইতে তুমি দিয়েছো ঢেলে সব  
সবই মোদের তরে ।  


দাওনি ছেড়ে সৃষ্টি করে 
জ্ঞান দিয়েছো ধীরে ধীরে,‌
দেয়েছো সম্মান ওগো রহমান 
ভুলি তোমায় কেমন করে। 
ও রব... 
তোমাকে ভুলি কেমন করে,  
না চাইতে তুমি দিয়েছো ঢেলে সব  
সবই মোদের তরে ।। 




শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫

কান ভাঙানো কথায় যদি

কান ভাঙানো কথায় যদি 
তরিকুল ইসলাম খালাসী 
মধ্যবেনা বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা) 

কান ভাঙানো কথায় যদি 
মনটা তোমার ভাঙে, 
উড়ে যাবে শুনে রাখো 
তোমার ঘরের ফিঙে । 
তোমার কাছে কখনো ভাই .. 
দেবে না সে ধরা, 
তিলে তিলে মরবে তুমি 
মজা নেবে ওরা । 

পরো কথায় কানটা দিয়ে 
মনটা ভেঙো না,  
হঠাৎ করে রেগে গিয়ে 
আগুন জ্বেলো না । 
আগে জানো ঠিক না বেঠিক.. 
নইলে পড়বে ধরা, 
তিলে তিলে মরবে তুমি 
মজা নেবে ওরা । 

তোমার আশে পাশে দেখো 
কতো এমন আছে, 
আপন আপন ভাব নিয়ে সে 
আসে অনেক কাছে ।  
মনের কথা কইবার আগে..
দেখো ওরা কারা,  
(নইলে)তিলে তিলে মরবে তুমি 
মজা নেবে ওরা ।। 

বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫

প্রতিবেশীর খবর নিও

প্রতিবেশীর খবর নিও
তরিকুল ইসলাম খালাসী 
মধ্যবেনা বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা) 

তোমার আমার প্রতিবেশী
ভুখা যদি থাকে,
খাবার থেকে খাবার নিয়ে
দিও তুমি তাকে।

প্রতিবেশীর খবর নেওয়া
রবের হুকুম ভাই,
সুখে-দুঃখে থাকলে পাশে
মনটা ভালো রয়।
ওই ভালো মনে তাদেরই ভাই
নিও কাছে ডেকে,
খাবার থেকে খাবার নিয়ে
দিও তুমি তাকে।
তোমার আমার.............

প্রতিবেশী তোমার তরে
রবের দেওয়া নিয়ামত,
একাকীত্ব দূর হয়ে যায়
বাড়ে মোহাব্বত।
তাই ভালোবাসা দাও বিলিয়ে
ও ভাই হাসি মুখে,
খাবার থেকে খাবার নিয়ে
দিও তুমি তাকে।
তোমার আমার.............।।

মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫

বিষয়: সামাজিক জীবন

বিষয়: সামাজিক জীবন
 বক্তা: তরিকুল ইসলাম খালাসী
সময়: প্রায় ৬ মিনিট


আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা, 

আজকে আমার আলোচনার বিষয়— 
“সামাজিক জীবন”।

মানুষ কখনোই একা বাঁচতে পারে না। 

মানুষ সমাজে থাকে, সমাজেই বড় হয়, সমাজ থেকেই শিক্ষা পায়।
তাই ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে— সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক, ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সামাজিক জীবন গড়তে।

আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন—

> "হে মানুষ! আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে,
এবং তোমাদের করেছি জাতি ও গোত্রে বিভক্ত — যেন তোমরা পরস্পর পরিচিত হও।
নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত সে, যে সবচেয়ে পরহেজগার।"
(সূরা হুজুরাত, আয়াত ১৩)

এই আয়াত আমাদের কি শিক্ষা দেয়?

জাতি, বর্ণ, ভাষা, দেশ — এগুলো আলাদা হতে পারে,
কিন্তু সবাই আল্লাহর সৃষ্টি।
কেউ কারো চেয়ে বড় নয়, ছোট নয় — তাকওয়া অনুযায়ীই মানুষের মর্যাদা।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

> "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত সত্যিকার মুমিন হতে পারবে না,
যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা ভালোবাসে,
তা তার ভাইয়ের জন্যও ভালোবাসে।" (বুখারী ও মুসলিম)

এটা হলো সামাজিক জীবনের মূল শিক্ষা —
ভালোবাসা, সহানুভূতি, পরস্পরের সাহায্য করা।

আজ আমাদের সমাজে নানান রকম সমস্যা কেন?

কারণ, আমরা একে অপরের প্রতি দায়িত্ব ভুলে গেছি।
কেউ কষ্টে পড়লে পাশে দাঁড়াই না,
গরিবকে অবহেলা করি, পরের দোষ খুঁজি —
এগুলো ইসলাম পছন্দ করে না।

রাসূল ﷺ বলেছেন,

> "যে মানুষ তার প্রতিবেশীর ক্ষতি করে, সে মুমিন নয়।" (বুখারী)

অর্থাৎ, সমাজের শান্তি শুরু হয় নিজের আচরণ থেকে।
যদি আমি সৎ হই, সহানুভূতিশীল হই,
তাহলে সমাজও সুন্দর হবে।

কুরআন আমাদের সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছে—

> "তোমরা ন্যায়বিচার কর,
আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।"
(সূরা মায়িদা, আয়াত ৪২)

তাহলে আমাদের কাজ কী? 

আমাদের কাজ— অন্যায় কে প্রতিহত করা,
সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো —
যেভাবে নবী ও সাহাবারা করেছেন।

আমরা যদি পরিবারে, পাড়ায়, সমাজে
সততা, ন্যায়, দয়া, সহানুভূতির চর্চা করি —
তাহলেই সমাজ বদলাবে।

শেষে বলব—

সামাজিক জীবন সুন্দর হবে তখনই,
যখন প্রত্যেকে আল্লাহভীতি নিয়ে চলবে,
অন্যের উপকারে আসবে,
আর রাসূল ﷺ–এর আদর্শকে অনুসরণ করবে।

আসুন আমরা সবাই সেই সুন্দর সমাজ গড়ার চেষ্টা করি,
যেখানে থাকবে না হিংসা, থাকবে না অন্যায়,
থাকবে ভালোবাসা, ন্যায় আর আল্লাহভীতি। 


রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫

বিষয়: অমুসলিমদের কাছে কেন ও কিভাবে দ্বীনের দাওয়াত তুলে ধরতে হবে

বিষয়: অমুসলিমদের কাছে কেন ও কিভাবে দ্বীনের দাওয়াত তুলে ধরতে হবে
বক্তা: তরিকুল ইসলাম খালাসী
---
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রিয় ভাইয়েরা: 
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।


আজ আমর আলোচনার বিষয় — “অমুসলিমদের কাছে কেন এবং কিভাবে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে।”
---

কেন দাওয়াত দিতে হবে?

প্রথম কারণ হলো — এটা আল্লাহর আদেশ।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

اُدْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ
(সূরা নাহল: ১২৫)

অর্থাৎ— “আপনার প্রতিপালকের পথে আহ্বান করুন প্রজ্ঞা ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে, এবং তাদের সাথে এমনভাবে কথা বলুন যা সর্বোত্তম।”

এই আয়াতে আল্লাহ আমাদের শিখিয়েছেন, ইসলামের বার্তা সবাইকে পৌঁছে দিতে হবে —
শুধু মুসলমানদের নয়, অমুসলিম ভাইবোনদের কাছেও।
---
দ্বিতীয় কারণ — আমরা সবাই আদমের সন্তান।
আল্লাহ বলেন—

يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا ۚ
(সূরা হুজুরাত: ১৩)

অর্থ— “হে মানুষ! আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে, এবং তোমাদের জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যেন তোমরা পরস্পর পরিচিত হও।”

অতএব, অমুসলিমরাও আমাদের ভাইবোন। তাদের কাছে দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া মানে তাদের মঙ্গল কামনা করা।
---

তৃতীয় কারণ — এটা নবীজির আমানত।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً
(সহিহ বুখারি)

অর্থাৎ— “আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াতই হয়।”

নবীজির এই নির্দেশ আমাদের ওপর দায়িত্ব তৈরি করেছে।
আমরা যতটুকু জানি, ততটুকু জানানোই দাওয়াত।

তাহলে:  কেন দাওয়াত দিতে হবে, এই বিষয়ে শুনলাম কুরআন এবং হাদীস থেকে ‌। 
---
এখন: 
 কিভাবে দাওয়াত দিতে হবে?

প্রথমত — নরমভাবে কথা বলতে হবে।
কুরআনে আল্লাহ মূসা (আঃ)-কে ফেরাউনের কাছে পাঠানোর সময়ও বলেছিলেন—

فَقُولَا لَهُ قَوْلًا لَّيِّنًا لَّعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَىٰ
(সূরা ত্বা-হা: ৪৪)

অর্থ— “তার সাথে নম্রভাবে কথা বলো, যাতে সে উপদেশ গ্রহণ করে বা ভয় করে।”

তাহলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত? অবশ্যই নরম, নম্র ও সহানুভূতিশীল।
---

দ্বিতীয়ত — চরিত্র দিয়ে দাওয়াত ।
কথায় নয়, আচরণে ইসলাম । 

রাসূল ﷺ যখন মক্কায় ছিলেন, তখন মানুষ তাকে বলত “আল-আমিন” — মানে বিশ্বস্ত ব্যক্তি।
তার চরিত্রই ছিল সবচেয়ে বড় দাওয়াত।
আমরা যদি সত্যবাদী হই, অন্যায় না করি, কারো ক্ষতি না করি —
মানুষ বলবে, “এই ধর্মটা নিশ্চয়ই সত্য।”
---
তৃতীয়ত — জ্ঞান ও যুক্তি দিয়ে বোঝানো।
অনেকে ইসলামকে ভুলভাবে জানে।
তাদের প্রশ্ন থাকে — “কেন নামাজ?”, “কেন পর্দা?”, “কেন আল্লাহ এক?” এই ধরনের। 
আমরা যদি ধৈর্য ধরে কুরআনের আলোকে সহজভাবে বোঝাই,
তাহলে তারা নিজেরাই সত্যের পথে আসবে, ইনশাআল্লাহ।
---
চতুর্থত — ভালোবাসা ও ধৈর্য ।
দাওয়াত মানে কাউকে জোর করা নয়।
আল্লাহ নিজেই বলেছেন— “ধর্মে কোনো জবরদস্তি নেই।”
(সূরা বাকারা: ২৫৬)

তাই আমরা শুধু সত্যটা পৌঁছে দেবো, ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেবো।
---

দাওয়াতের তিনটি মূল কথা আমাদের মনে রাখতে হবে: 

১  ভালোবাসা
২  প্রজ্ঞা
৩  সহনশীলতা

ভালোবাসা না থাকলে মানুষ শুনবে না,
প্রজ্ঞা না থাকলে বোঝবে না,
আর সহনশীলতা না থাকলে দাওয়াত টিকবে না।
---
শেষ কথা

প্রিয় ভাইয়েরা: 
ইসলামের দাওয়াত মানে  কারো বিরুদ্ধে কাজ নয়,
বরং মানবতার মুক্তির বার্তা।
আমরা যদি সুন্দরভাবে বলি —
“ভাই, আল্লাহ আমাদের এক, তিনি ন্যায় ও সত্য তিনি ভালোবাসেন।”
তবে সেই একটি বাক্য কারও জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

আসুন, আমরা দাওয়াতের পথিক হই —
নরম কথা, সুন্দর আচরণ ও ভালোবাসা দিয়ে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাই।
---
এই বলে আমি আমার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষ করছি। 
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হিকমাহ, ধৈর্য ও আন্তরিকতা দান করুন, আমীন। 
যাতে আমরা ইসলামের দাওয়াত সঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারি। 

ওয়াখিরি দাওয়ানা আনিল হামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন। 
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। 

শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫

রক্তের টান

রক্তের টান 
তরিকুল ইসলাম খালাসী 
মধ্যবেনা বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা) 

এসো রক্তের টানে এক হই,
ভেদাভেদ করি দূর,
এসো মুক্তির পথে হেঁটে যাই,
ভালোবাসা হোক সুমধুর।

এসো ঘৃণা মুছে বিলিয়ে দিই,
ভালোবাসার সেই হাসি,
এসো ফুলগুলোকে ফুটতে দেই 
যাদের সুবাস অনেক বেশি ।

দেখো পৃথিবী সবার একটাই ঘর,
সে ঘরের বাইরে কেহ নয়,
তাহলে বলো বিভেদ কেন?
ধর্মে ধর্মে হবে পরিচয় ।

এসো ভুলে যাই আবার সাজাই
পৃথিবী নতুন করে, 
এসো মানবতাকেই বহন করি 
হিংসাকে ফেলি অনেক দূরে।।

শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫

কাঁদছে ফিলিস্তিন

কাঁদছে ফিলিস্তিন
তরিকুল ইসলাম খালাসী
মধ্যবেনা বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা) 

আজ তোমার আমার আনন্দে
যায় কেটে দিন,
ফিলিস্তিনের ভাই বোনেদের
দেহ হয় ক্ষীণ।
জুলুমবাজের অত্যাচারে
রক্তে রাঙা এই জমিন,
কাঁদছে ফিলিস্তিন, কাঁদছে ফিলিস্তিন,
কাঁদছে ফিলিস্তিন, কাঁদছে ফিলিস্তিন,
আজ তোমার আমার.........

কতো শিশু পথের ধারে
ধুঁকে ধুঁকে মরে,
কতো বোনের ইজ্জত নিয়ে
শকুন উল্লাস করে।
কতো মায়ের বুকের ধন
হয় রক্তে লাল,
বিশ্ব মুসলিম নীরব কেন
জানতে চাই মুমিন।
কাঁদছে ফিলিস্তিন, কাঁদছে ফিলিস্তিন,
কাঁদছে ফিলিস্তিন, কাঁদছে ফিলিস্তিন,
আজ তোমার আমার.........

ওহে উম্মত জাগো এবার
তাওহীদের নামে,
মুমিন রক্ত যায় না বৃথা
যাবো না মোরা থেমে।
চলো সবাই ঐক্য গড়ি
সত্যের আহ্বান,
জুলুমবাজের হবে অবসান
হবে বিজয় দ্বীন।
কাঁদছে ফিলিস্তিন, কাঁদছে ফিলিস্তিন,
কাঁদছে ফিলিস্তিন, কাঁদছে ফিলিস্তিন,
আজ তোমার আমার......... ।।

জিহ্বা

জিহ্বা
তরিকুল ইসলাম খালাসী 
মধ্যবেনা বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা) 

হে জিহ্বা!
দিয়েছো কতো গালি,
ভেঙেছো শত সম্পর্ক,
ভুলিয়েছো কোলাকুলি।

আদর আদর কথায় 
ভালো বাসতে জানো,
তবুও হৃদয় ভাঙো
বলতে পারো কেন? 

একটু মিথ্যা বললেই 
যায় ঝরে বিশ্বাস,
জ্বলে ওঠে অশান্তি 
হয় কতো সর্বনাশ ।

যদি রাখি নিয়ন্ত্রণ,
মধুর হয় জীবন, 
পরিবেশ শান্ত হয় 
হয় পুনর্গঠন ।

মধুর বাণী দাও যখন 
জুড়িয়ে যায় প্রাণ, 
সেই বাণীতেই জড়িয়ে থাকে 
সকল ফুলের ঘ্রাণ । 

জিহ্বা! তোমায় সামলাতে 
পারলেই আছে জান্নাত, 
খেয়াল রেখো বিফল যেন 
হয়না এই মেহনত ।। 



মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

যে সত্য বলতে গিয়ে

যে সত্য বলতে গিয়ে 
তরিকুল ইসলাম খালাসী 
মধ্যবেনা বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা) 

যে সত্য বলতে গিয়ে
আসতে পারে ফাঁসি, 
সে ফাঁসি হোকনা আমার 
পাবে মুখে হাসি । 

রব আমাদের খুশি হয়ে
দেবেন জান্নাত, 
হাসি মুখে ফাঁসির দড়ি
নবীর ছুন্নত । 
দ্বীনের পথে মনের থেকে 
তাইতো ও ভাই আসি।
সে ফাঁসি হোকনা আমার 
পাবে মুখে হাসি । 
যে সত্য বলতে........

সত্য দ্বীনের তরে যদি
রক্ত দিতে হয়, 
প্রস্তুত আছি সদা আমি 
প্রাণে নেই ভয় । 
তাই দ্বীন প্রচারের পথটাকে ভাই 
অনেক ভালবাসি।
সে ফাঁসি হোকনা আমার 
পাবে মুখে হাসি ।
যে সত্য বলতে........।।

Featured Post

চলনা চলনা চলনা চল

চলনা চলনা চলনা চল তরিকুল ইসলাম খালাসী  মধ্যবেনা, বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা)  চলনা চলনা চলনা চল, সত্যের পথে চলনা চল। অন্যায় দেখে চুপ না থেক...