মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

রোজা ও আত্মসংযম

বিষয়: রোজা ও আত্মসংযম 
বক্তা: তরিকুল ইসলাম খালাসী 
স্থান: যশাইকাটি, পশ্চিম পাড়া 
সময়: 10 মিনিট 

আ‘উযু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

সম্মানিত জেলা নাজিম, সহকারী জেলা নাজিম, তবিয়তে ইনচার্জ, দাওয়াতি ইনচার্জ, সহ উপস্থিত শিক্ষকবৃন্দ এবং আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। 

আজ আমি যে বিষয়টি নিয়ে আপনাদের সামনে কথা বলতে চাই, তা হলো রোজা ও আত্মসংযম। 

 এই দুইটি বিষয় একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। রোজা শুধু উপবাস থাকার নাম নয়, বরং এটি মানুষের চরিত্র গঠনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। 

আমরা জানি, ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হলো রোজা। কিন্তু রোজার উদ্দেশ্য কী? আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন, “তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” অর্থাৎ রোজার মূল লক্ষ্য হলো আত্মসংযম, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং আল্লাহভীতির চর্চা। 

রোজার মাধ্যমে আমরা দিনের বেলা খাবার, পানি ও বৈধ কিছু চাহিদা থেকেও বিরত থাকি। প্রশ্ন হলো, কেন? এর মাধ্যমে আমাদের শেখানো হয় কীভাবে নিজের ইচ্ছা ও প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। মানুষ সাধারণত যা চায়, তা সঙ্গে সঙ্গে পেতে অভ্যস্ত। কিন্তু রোজা আমাদের শেখায় ধৈর্য ধরতে, অপেক্ষা করতে এবং সীমা মানতে। 

আত্মসংযম মানে শুধু না খাওয়া বা না পান করা নয়। আত্মসংযম মানে হলো রাগ সংযত করা, খারাপ কথা বলা থেকে বিরত থাকা, মিথ্যা, গিবত ও অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি রোজা রেখেও মিথ্যা কথা ও খারাপ কাজ ছাড়ে না, আল্লাহর কাছে তার শুধু না খেয়ে থাকার কোনো মূল্য নেই।” 

এই হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি, রোজার আসল শিক্ষা হলো চরিত্র সংশোধন। রোজা আমাদের ভেতরের মানুষটিকে শুদ্ধ করে।
আজকের সমাজে আমরা লক্ষ্য করি, মানুষ খুব সহজেই রেগে যায়, ধৈর্য হারায়, অন্যের কষ্ট বোঝে না। আত্মসংযমের অভাব আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে নানা সমস্যার সৃষ্টি করছে। রোজা এই জায়গাতেই আমাদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ হিসেবে কাজ করে। 

রোজা আমাদের সহানুভূতিশীল করে তোলে। যখন আমরা ক্ষুধা ও তৃষ্ণা অনুভব করি, তখন দরিদ্র মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও উপলব্ধি করতে পারি। তখন আমাদের মনে দয়া জন্মায়, সাহায্যের মানসিকতা তৈরি হয়। এই অনুভূতিই একজন মানুষকে প্রকৃত অর্থে মানবিক করে তোলে।
রোজার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো নিয়মানুবর্তিতা। নির্দিষ্ট সময়ে সেহরি খাওয়া, নির্দিষ্ট সময়ে ইফতার করা, নামাজ আদায় করা, কুরআন তিলাওয়াত করা। এই শৃঙ্খলা আমাদের পুরো জীবনে প্রভাব ফেলে। একজন সংযমী ও নিয়ম মেনে চলা মানুষ জীবনে সফল হতে পারে।
কিন্তু আমাদের একটি প্রশ্ন নিজেকে করা উচিত। রমজান শেষ হওয়ার পর আমরা কতটুকু এই আত্মসংযম ধরে রাখতে পারি? রোজা কি শুধু একটি মাসের জন্য, নাকি সারা জীবনের জন্য একটি শিক্ষা? 

যদি রমজান শেষে আমরা আবার আগের অভ্যাসে ফিরে যাই, তাহলে আমাদের রোজার উদ্দেশ্য পূর্ণ হয় না। প্রকৃত সফলতা তখনই, যখন রোজার শিক্ষা আমাদের কথা, কাজ ও আচরণে প্রতিফলিত হয়। 

তাই, 
সবশেষে বলতে চাই, রোজা আমাদের দুর্বলতা মনে করিয়ে দেয় এবং শক্তিশালী করে তোলে আমাদের আত্মাকে। আত্মসংযমের মাধ্যমে আমরা ভালো মানুষ হতে পারি, ভালো মুসলিম হতে পারি এবং একটি সুন্দর সমাজ গড়তে পারি।
আসুন, আমরা সবাই রোজার শিক্ষা শুধু পালনেই সীমাবদ্ধ না রেখে, তা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করি। 

আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সবাইকে রোজার প্রকৃত শিক্ষা বোঝার এবং আত্মসংযমের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করেন। 

আমিন।
ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Featured Post

চলনা চলনা চলনা চল

চলনা চলনা চলনা চল তরিকুল ইসলাম খালাসী  মধ্যবেনা, বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা)  চলনা চলনা চলনা চল, সত্যের পথে চলনা চল। অন্যায় দেখে চুপ না থেক...