রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫

বিষয়: অমুসলিমদের কাছে কেন ও কিভাবে দ্বীনের দাওয়াত তুলে ধরতে হবে

বিষয়: অমুসলিমদের কাছে কেন ও কিভাবে দ্বীনের দাওয়াত তুলে ধরতে হবে
বক্তা: তরিকুল ইসলাম খালাসী
---
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রিয় ভাইয়েরা: 
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।


আজ আমর আলোচনার বিষয় — “অমুসলিমদের কাছে কেন এবং কিভাবে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে।”
---

কেন দাওয়াত দিতে হবে?

প্রথম কারণ হলো — এটা আল্লাহর আদেশ।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

اُدْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ
(সূরা নাহল: ১২৫)

অর্থাৎ— “আপনার প্রতিপালকের পথে আহ্বান করুন প্রজ্ঞা ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে, এবং তাদের সাথে এমনভাবে কথা বলুন যা সর্বোত্তম।”

এই আয়াতে আল্লাহ আমাদের শিখিয়েছেন, ইসলামের বার্তা সবাইকে পৌঁছে দিতে হবে —
শুধু মুসলমানদের নয়, অমুসলিম ভাইবোনদের কাছেও।
---
দ্বিতীয় কারণ — আমরা সবাই আদমের সন্তান।
আল্লাহ বলেন—

يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا ۚ
(সূরা হুজুরাত: ১৩)

অর্থ— “হে মানুষ! আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে, এবং তোমাদের জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যেন তোমরা পরস্পর পরিচিত হও।”

অতএব, অমুসলিমরাও আমাদের ভাইবোন। তাদের কাছে দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া মানে তাদের মঙ্গল কামনা করা।
---

তৃতীয় কারণ — এটা নবীজির আমানত।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً
(সহিহ বুখারি)

অর্থাৎ— “আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াতই হয়।”

নবীজির এই নির্দেশ আমাদের ওপর দায়িত্ব তৈরি করেছে।
আমরা যতটুকু জানি, ততটুকু জানানোই দাওয়াত।

তাহলে:  কেন দাওয়াত দিতে হবে, এই বিষয়ে শুনলাম কুরআন এবং হাদীস থেকে ‌। 
---
এখন: 
 কিভাবে দাওয়াত দিতে হবে?

প্রথমত — নরমভাবে কথা বলতে হবে।
কুরআনে আল্লাহ মূসা (আঃ)-কে ফেরাউনের কাছে পাঠানোর সময়ও বলেছিলেন—

فَقُولَا لَهُ قَوْلًا لَّيِّنًا لَّعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَىٰ
(সূরা ত্বা-হা: ৪৪)

অর্থ— “তার সাথে নম্রভাবে কথা বলো, যাতে সে উপদেশ গ্রহণ করে বা ভয় করে।”

তাহলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত? অবশ্যই নরম, নম্র ও সহানুভূতিশীল।
---

দ্বিতীয়ত — চরিত্র দিয়ে দাওয়াত ।
কথায় নয়, আচরণে ইসলাম । 

রাসূল ﷺ যখন মক্কায় ছিলেন, তখন মানুষ তাকে বলত “আল-আমিন” — মানে বিশ্বস্ত ব্যক্তি।
তার চরিত্রই ছিল সবচেয়ে বড় দাওয়াত।
আমরা যদি সত্যবাদী হই, অন্যায় না করি, কারো ক্ষতি না করি —
মানুষ বলবে, “এই ধর্মটা নিশ্চয়ই সত্য।”
---
তৃতীয়ত — জ্ঞান ও যুক্তি দিয়ে বোঝানো।
অনেকে ইসলামকে ভুলভাবে জানে।
তাদের প্রশ্ন থাকে — “কেন নামাজ?”, “কেন পর্দা?”, “কেন আল্লাহ এক?” এই ধরনের। 
আমরা যদি ধৈর্য ধরে কুরআনের আলোকে সহজভাবে বোঝাই,
তাহলে তারা নিজেরাই সত্যের পথে আসবে, ইনশাআল্লাহ।
---
চতুর্থত — ভালোবাসা ও ধৈর্য ।
দাওয়াত মানে কাউকে জোর করা নয়।
আল্লাহ নিজেই বলেছেন— “ধর্মে কোনো জবরদস্তি নেই।”
(সূরা বাকারা: ২৫৬)

তাই আমরা শুধু সত্যটা পৌঁছে দেবো, ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেবো।
---

দাওয়াতের তিনটি মূল কথা আমাদের মনে রাখতে হবে: 

১  ভালোবাসা
২  প্রজ্ঞা
৩  সহনশীলতা

ভালোবাসা না থাকলে মানুষ শুনবে না,
প্রজ্ঞা না থাকলে বোঝবে না,
আর সহনশীলতা না থাকলে দাওয়াত টিকবে না।
---
শেষ কথা

প্রিয় ভাইয়েরা: 
ইসলামের দাওয়াত মানে  কারো বিরুদ্ধে কাজ নয়,
বরং মানবতার মুক্তির বার্তা।
আমরা যদি সুন্দরভাবে বলি —
“ভাই, আল্লাহ আমাদের এক, তিনি ন্যায় ও সত্য তিনি ভালোবাসেন।”
তবে সেই একটি বাক্য কারও জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

আসুন, আমরা দাওয়াতের পথিক হই —
নরম কথা, সুন্দর আচরণ ও ভালোবাসা দিয়ে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাই।
---
এই বলে আমি আমার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষ করছি। 
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হিকমাহ, ধৈর্য ও আন্তরিকতা দান করুন, আমীন। 
যাতে আমরা ইসলামের দাওয়াত সঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারি। 

ওয়াখিরি দাওয়ানা আনিল হামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন। 
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Featured Post

অধিকার

অধিকার  তরিকুল ইসলাম খালাসী  মধ্যবেনা বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা)  অধিকার নিয়ে কথা বলা  যদি হয় আমাদের অপরাধ,  সেই অপরাধে হোকনা ফাঁসি  তবু ...