বক্তা: তরিকুল ইসলাম খালাসী
সময়: প্রায় ৬ মিনিট
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আজকে আমার আলোচনার বিষয়—
“সামাজিক জীবন”।
মানুষ কখনোই একা বাঁচতে পারে না।
মানুষ সমাজে থাকে, সমাজেই বড় হয়, সমাজ থেকেই শিক্ষা পায়।
তাই ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে— সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক, ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সামাজিক জীবন গড়তে।
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন—
> "হে মানুষ! আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে,
এবং তোমাদের করেছি জাতি ও গোত্রে বিভক্ত — যেন তোমরা পরস্পর পরিচিত হও।
নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত সে, যে সবচেয়ে পরহেজগার।"
(সূরা হুজুরাত, আয়াত ১৩)
এই আয়াত আমাদের কি শিক্ষা দেয়?
জাতি, বর্ণ, ভাষা, দেশ — এগুলো আলাদা হতে পারে,
কিন্তু সবাই আল্লাহর সৃষ্টি।
কেউ কারো চেয়ে বড় নয়, ছোট নয় — তাকওয়া অনুযায়ীই মানুষের মর্যাদা।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
> "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত সত্যিকার মুমিন হতে পারবে না,
যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা ভালোবাসে,
তা তার ভাইয়ের জন্যও ভালোবাসে।" (বুখারী ও মুসলিম)
এটা হলো সামাজিক জীবনের মূল শিক্ষা —
ভালোবাসা, সহানুভূতি, পরস্পরের সাহায্য করা।
আজ আমাদের সমাজে নানান রকম সমস্যা কেন?
কারণ, আমরা একে অপরের প্রতি দায়িত্ব ভুলে গেছি।
কেউ কষ্টে পড়লে পাশে দাঁড়াই না,
গরিবকে অবহেলা করি, পরের দোষ খুঁজি —
এগুলো ইসলাম পছন্দ করে না।
রাসূল ﷺ বলেছেন,
> "যে মানুষ তার প্রতিবেশীর ক্ষতি করে, সে মুমিন নয়।" (বুখারী)
অর্থাৎ, সমাজের শান্তি শুরু হয় নিজের আচরণ থেকে।
যদি আমি সৎ হই, সহানুভূতিশীল হই,
তাহলে সমাজও সুন্দর হবে।
কুরআন আমাদের সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছে—
> "তোমরা ন্যায়বিচার কর,
আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।"
(সূরা মায়িদা, আয়াত ৪২)
তাহলে আমাদের কাজ কী?
আমাদের কাজ— অন্যায় কে প্রতিহত করা,
সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো —
যেভাবে নবী ও সাহাবারা করেছেন।
আমরা যদি পরিবারে, পাড়ায়, সমাজে
সততা, ন্যায়, দয়া, সহানুভূতির চর্চা করি —
তাহলেই সমাজ বদলাবে।
শেষে বলব—
সামাজিক জীবন সুন্দর হবে তখনই,
যখন প্রত্যেকে আল্লাহভীতি নিয়ে চলবে,
অন্যের উপকারে আসবে,
আর রাসূল ﷺ–এর আদর্শকে অনুসরণ করবে।
আসুন আমরা সবাই সেই সুন্দর সমাজ গড়ার চেষ্টা করি,
যেখানে থাকবে না হিংসা, থাকবে না অন্যায়,
থাকবে ভালোবাসা, ন্যায় আর আল্লাহভীতি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন