বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫

প্রতিবেশীর খবর নিও

প্রতিবেশীর খবর নিও
তরিকুল ইসলাম খালাসী 
মধ্যবেনা বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা) 

তোমার আমার প্রতিবেশী
ভুখা যদি থাকে,
খাবার থেকে খাবার নিয়ে
দিও তুমি তাকে।

প্রতিবেশীর খবর নেওয়া
রবের হুকুম ভাই,
সুখে-দুঃখে থাকলে পাশে
মনটা ভালো রয়।
ওই ভালো মনে তাদেরই ভাই
নিও কাছে ডেকে,
খাবার থেকে খাবার নিয়ে
দিও তুমি তাকে।
তোমার আমার.............

প্রতিবেশী তোমার তরে
রবের দেওয়া নিয়ামত,
একাকীত্ব দূর হয়ে যায়
বাড়ে মোহাব্বত।
তাই ভালোবাসা দাও বিলিয়ে
ও ভাই হাসি মুখে,
খাবার থেকে খাবার নিয়ে
দিও তুমি তাকে।
তোমার আমার.............।।

মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫

বিষয়: সামাজিক জীবন

বিষয়: সামাজিক জীবন
 বক্তা: তরিকুল ইসলাম খালাসী
সময়: প্রায় ৬ মিনিট


আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা, 

আজকে আমার আলোচনার বিষয়— 
“সামাজিক জীবন”।

মানুষ কখনোই একা বাঁচতে পারে না। 

মানুষ সমাজে থাকে, সমাজেই বড় হয়, সমাজ থেকেই শিক্ষা পায়।
তাই ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে— সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক, ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সামাজিক জীবন গড়তে।

আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন—

> "হে মানুষ! আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে,
এবং তোমাদের করেছি জাতি ও গোত্রে বিভক্ত — যেন তোমরা পরস্পর পরিচিত হও।
নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত সে, যে সবচেয়ে পরহেজগার।"
(সূরা হুজুরাত, আয়াত ১৩)

এই আয়াত আমাদের কি শিক্ষা দেয়?

জাতি, বর্ণ, ভাষা, দেশ — এগুলো আলাদা হতে পারে,
কিন্তু সবাই আল্লাহর সৃষ্টি।
কেউ কারো চেয়ে বড় নয়, ছোট নয় — তাকওয়া অনুযায়ীই মানুষের মর্যাদা।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

> "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত সত্যিকার মুমিন হতে পারবে না,
যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা ভালোবাসে,
তা তার ভাইয়ের জন্যও ভালোবাসে।" (বুখারী ও মুসলিম)

এটা হলো সামাজিক জীবনের মূল শিক্ষা —
ভালোবাসা, সহানুভূতি, পরস্পরের সাহায্য করা।

আজ আমাদের সমাজে নানান রকম সমস্যা কেন?

কারণ, আমরা একে অপরের প্রতি দায়িত্ব ভুলে গেছি।
কেউ কষ্টে পড়লে পাশে দাঁড়াই না,
গরিবকে অবহেলা করি, পরের দোষ খুঁজি —
এগুলো ইসলাম পছন্দ করে না।

রাসূল ﷺ বলেছেন,

> "যে মানুষ তার প্রতিবেশীর ক্ষতি করে, সে মুমিন নয়।" (বুখারী)

অর্থাৎ, সমাজের শান্তি শুরু হয় নিজের আচরণ থেকে।
যদি আমি সৎ হই, সহানুভূতিশীল হই,
তাহলে সমাজও সুন্দর হবে।

কুরআন আমাদের সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছে—

> "তোমরা ন্যায়বিচার কর,
আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।"
(সূরা মায়িদা, আয়াত ৪২)

তাহলে আমাদের কাজ কী? 

আমাদের কাজ— অন্যায় কে প্রতিহত করা,
সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো —
যেভাবে নবী ও সাহাবারা করেছেন।

আমরা যদি পরিবারে, পাড়ায়, সমাজে
সততা, ন্যায়, দয়া, সহানুভূতির চর্চা করি —
তাহলেই সমাজ বদলাবে।

শেষে বলব—

সামাজিক জীবন সুন্দর হবে তখনই,
যখন প্রত্যেকে আল্লাহভীতি নিয়ে চলবে,
অন্যের উপকারে আসবে,
আর রাসূল ﷺ–এর আদর্শকে অনুসরণ করবে।

আসুন আমরা সবাই সেই সুন্দর সমাজ গড়ার চেষ্টা করি,
যেখানে থাকবে না হিংসা, থাকবে না অন্যায়,
থাকবে ভালোবাসা, ন্যায় আর আল্লাহভীতি। 


রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫

বিষয়: অমুসলিমদের কাছে কেন ও কিভাবে দ্বীনের দাওয়াত তুলে ধরতে হবে

বিষয়: অমুসলিমদের কাছে কেন ও কিভাবে দ্বীনের দাওয়াত তুলে ধরতে হবে
বক্তা: তরিকুল ইসলাম খালাসী
---
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রিয় ভাইয়েরা: 
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।


আজ আমর আলোচনার বিষয় — “অমুসলিমদের কাছে কেন এবং কিভাবে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে।”
---

কেন দাওয়াত দিতে হবে?

প্রথম কারণ হলো — এটা আল্লাহর আদেশ।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

اُدْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ
(সূরা নাহল: ১২৫)

অর্থাৎ— “আপনার প্রতিপালকের পথে আহ্বান করুন প্রজ্ঞা ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে, এবং তাদের সাথে এমনভাবে কথা বলুন যা সর্বোত্তম।”

এই আয়াতে আল্লাহ আমাদের শিখিয়েছেন, ইসলামের বার্তা সবাইকে পৌঁছে দিতে হবে —
শুধু মুসলমানদের নয়, অমুসলিম ভাইবোনদের কাছেও।
---
দ্বিতীয় কারণ — আমরা সবাই আদমের সন্তান।
আল্লাহ বলেন—

يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا ۚ
(সূরা হুজুরাত: ১৩)

অর্থ— “হে মানুষ! আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে, এবং তোমাদের জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যেন তোমরা পরস্পর পরিচিত হও।”

অতএব, অমুসলিমরাও আমাদের ভাইবোন। তাদের কাছে দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া মানে তাদের মঙ্গল কামনা করা।
---

তৃতীয় কারণ — এটা নবীজির আমানত।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً
(সহিহ বুখারি)

অর্থাৎ— “আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াতই হয়।”

নবীজির এই নির্দেশ আমাদের ওপর দায়িত্ব তৈরি করেছে।
আমরা যতটুকু জানি, ততটুকু জানানোই দাওয়াত।

তাহলে:  কেন দাওয়াত দিতে হবে, এই বিষয়ে শুনলাম কুরআন এবং হাদীস থেকে ‌। 
---
এখন: 
 কিভাবে দাওয়াত দিতে হবে?

প্রথমত — নরমভাবে কথা বলতে হবে।
কুরআনে আল্লাহ মূসা (আঃ)-কে ফেরাউনের কাছে পাঠানোর সময়ও বলেছিলেন—

فَقُولَا لَهُ قَوْلًا لَّيِّنًا لَّعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَىٰ
(সূরা ত্বা-হা: ৪৪)

অর্থ— “তার সাথে নম্রভাবে কথা বলো, যাতে সে উপদেশ গ্রহণ করে বা ভয় করে।”

তাহলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত? অবশ্যই নরম, নম্র ও সহানুভূতিশীল।
---

দ্বিতীয়ত — চরিত্র দিয়ে দাওয়াত ।
কথায় নয়, আচরণে ইসলাম । 

রাসূল ﷺ যখন মক্কায় ছিলেন, তখন মানুষ তাকে বলত “আল-আমিন” — মানে বিশ্বস্ত ব্যক্তি।
তার চরিত্রই ছিল সবচেয়ে বড় দাওয়াত।
আমরা যদি সত্যবাদী হই, অন্যায় না করি, কারো ক্ষতি না করি —
মানুষ বলবে, “এই ধর্মটা নিশ্চয়ই সত্য।”
---
তৃতীয়ত — জ্ঞান ও যুক্তি দিয়ে বোঝানো।
অনেকে ইসলামকে ভুলভাবে জানে।
তাদের প্রশ্ন থাকে — “কেন নামাজ?”, “কেন পর্দা?”, “কেন আল্লাহ এক?” এই ধরনের। 
আমরা যদি ধৈর্য ধরে কুরআনের আলোকে সহজভাবে বোঝাই,
তাহলে তারা নিজেরাই সত্যের পথে আসবে, ইনশাআল্লাহ।
---
চতুর্থত — ভালোবাসা ও ধৈর্য ।
দাওয়াত মানে কাউকে জোর করা নয়।
আল্লাহ নিজেই বলেছেন— “ধর্মে কোনো জবরদস্তি নেই।”
(সূরা বাকারা: ২৫৬)

তাই আমরা শুধু সত্যটা পৌঁছে দেবো, ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেবো।
---

দাওয়াতের তিনটি মূল কথা আমাদের মনে রাখতে হবে: 

১  ভালোবাসা
২  প্রজ্ঞা
৩  সহনশীলতা

ভালোবাসা না থাকলে মানুষ শুনবে না,
প্রজ্ঞা না থাকলে বোঝবে না,
আর সহনশীলতা না থাকলে দাওয়াত টিকবে না।
---
শেষ কথা

প্রিয় ভাইয়েরা: 
ইসলামের দাওয়াত মানে  কারো বিরুদ্ধে কাজ নয়,
বরং মানবতার মুক্তির বার্তা।
আমরা যদি সুন্দরভাবে বলি —
“ভাই, আল্লাহ আমাদের এক, তিনি ন্যায় ও সত্য তিনি ভালোবাসেন।”
তবে সেই একটি বাক্য কারও জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

আসুন, আমরা দাওয়াতের পথিক হই —
নরম কথা, সুন্দর আচরণ ও ভালোবাসা দিয়ে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাই।
---
এই বলে আমি আমার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষ করছি। 
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হিকমাহ, ধৈর্য ও আন্তরিকতা দান করুন, আমীন। 
যাতে আমরা ইসলামের দাওয়াত সঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারি। 

ওয়াখিরি দাওয়ানা আনিল হামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন। 
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। 

শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫

রক্তের টান

রক্তের টান 
তরিকুল ইসলাম খালাসী 
মধ্যবেনা বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা) 

এসো রক্তের টানে এক হই,
ভেদাভেদ করি দূর,
এসো মুক্তির পথে হেঁটে যাই,
ভালোবাসা হোক সুমধুর।

এসো ঘৃণা মুছে বিলিয়ে দিই,
ভালোবাসার সেই হাসি,
এসো ফুলগুলোকে ফুটতে দেই 
যাদের সুবাস অনেক বেশি ।

দেখো পৃথিবী সবার একটাই ঘর,
সে ঘরের বাইরে কেহ নয়,
তাহলে বলো বিভেদ কেন?
ধর্মে ধর্মে হবে পরিচয় ।

এসো ভুলে যাই আবার সাজাই
পৃথিবী নতুন করে, 
এসো মানবতাকেই বহন করি 
হিংসাকে ফেলি অনেক দূরে।।

শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫

কাঁদছে ফিলিস্তিন

কাঁদছে ফিলিস্তিন
তরিকুল ইসলাম খালাসী
মধ্যবেনা বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা) 

আজ তোমার আমার আনন্দে
যায় কেটে দিন,
ফিলিস্তিনের ভাই বোনেদের
দেহ হয় ক্ষীণ।
জুলুমবাজের অত্যাচারে
রক্তে রাঙা এই জমিন,
কাঁদছে ফিলিস্তিন, কাঁদছে ফিলিস্তিন,
কাঁদছে ফিলিস্তিন, কাঁদছে ফিলিস্তিন,
আজ তোমার আমার.........

কতো শিশু পথের ধারে
ধুঁকে ধুঁকে মরে,
কতো বোনের ইজ্জত নিয়ে
শকুন উল্লাস করে।
কতো মায়ের বুকের ধন
হয় রক্তে লাল,
বিশ্ব মুসলিম নীরব কেন
জানতে চাই মুমিন।
কাঁদছে ফিলিস্তিন, কাঁদছে ফিলিস্তিন,
কাঁদছে ফিলিস্তিন, কাঁদছে ফিলিস্তিন,
আজ তোমার আমার.........

ওহে উম্মত জাগো এবার
তাওহীদের নামে,
মুমিন রক্ত যায় না বৃথা
যাবো না মোরা থেমে।
চলো সবাই ঐক্য গড়ি
সত্যের আহ্বান,
জুলুমবাজের হবে অবসান
হবে বিজয় দ্বীন।
কাঁদছে ফিলিস্তিন, কাঁদছে ফিলিস্তিন,
কাঁদছে ফিলিস্তিন, কাঁদছে ফিলিস্তিন,
আজ তোমার আমার......... ।।

জিহ্বা

জিহ্বা
তরিকুল ইসলাম খালাসী 
মধ্যবেনা বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা) 

হে জিহ্বা!
দিয়েছো কতো গালি,
ভেঙেছো শত সম্পর্ক,
ভুলিয়েছো কোলাকুলি।

আদর আদর কথায় 
ভালো বাসতে জানো,
তবুও হৃদয় ভাঙো
বলতে পারো কেন? 

একটু মিথ্যা বললেই 
যায় ঝরে বিশ্বাস,
জ্বলে ওঠে অশান্তি 
হয় কতো সর্বনাশ ।

যদি রাখি নিয়ন্ত্রণ,
মধুর হয় জীবন, 
পরিবেশ শান্ত হয় 
হয় পুনর্গঠন ।

মধুর বাণী দাও যখন 
জুড়িয়ে যায় প্রাণ, 
সেই বাণীতেই জড়িয়ে থাকে 
সকল ফুলের ঘ্রাণ । 

জিহ্বা! তোমায় সামলাতে 
পারলেই আছে জান্নাত, 
খেয়াল রেখো বিফল যেন 
হয়না এই মেহনত ।। 



Featured Post

অধিকার

অধিকার  তরিকুল ইসলাম খালাসী  মধ্যবেনা বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা)  অধিকার নিয়ে কথা বলা  যদি হয় আমাদের অপরাধ,  সেই অপরাধে হোকনা ফাঁসি  তবু ...