তরিকুল ইসলাম খালাসী
মধ্যবেনা, বাদুড়িয়া (উত্তর ২৪ পরগনা)
যে পদ পাওয়ার আশায়
করছো জুলুম আজ,
অক্ষরে অক্ষরে থাকবে লেখা —
শোনো, তুমিই জুলুমবাজ।
তোমার মতো কত শত
দেখেছি জুলুমকারী,
সময় ফুরালেই যেতে হয়েছে —
এক সেকেন্ড হয়নি দেরি।
তুমি অর্জন করেছ খ্যাতি —
জুলুম করে, মাস্তান,
তোমার আচরণে হাসে
বড় ইবলিশ শয়তান।
ভক্তি-শ্রদ্ধা তোমার কাছে
পাইনি কখনো সম্মান,
দেশ ও দশে জেনেছে তোমায় —
বেইমান, তুমিই বেইমান।।
অর্থ/ব্যাখ্যা:
এই কবিতায় কবি কঠোর সমালোচনা করেছেন সেইসব মানুষের, যারা কেবল পদ ও ক্ষমতা পাওয়ার জন্য অন্যায়, জুলুম ও সন্ত্রাস চালায়। কবি বোঝাতে চেয়েছেন—ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, অন্যায়ের ফল একদিন ভোগ করতেই হয়।
প্রথম স্তবক:
“যে পদ পাওয়ার আশায় করছো জুলুম আজ,
অক্ষরে অক্ষরে থাকবে লেখা — শোনো, তুমিই জুলুমবাজ।”
👉 কবি বলছেন, যারা পদ বা ক্ষমতার লোভে অন্যায় করে, ইতিহাসে তারা চিরকাল জুলুমবাজ নামেই পরিচিত হবে।
দ্বিতীয় স্তবক:
“তোমার মতো কত শত দেখেছি জুলুমকারী,
সময় ফুরালেই যেতে হয়েছে — এক সেকেন্ড হয়নি দেরি।”
👉 অন্যায়কারীরা অনেক এসেছে, আবার সময়ের সঙ্গে সরে গিয়েছে। ক্ষমতা কারো কাছে স্থায়ী হয় না, এক মুহূর্তেই সব হারিয়ে যায়।
তৃতীয় স্তবক:
“তুমি অর্জন করেছ খ্যাতি — জুলুম করে, মাস্তান,
তোমার আচরণে হাসে বড় ইবলিশ শয়তান।”
👉 যারা জুলুম করে নাম কামায়, তারা প্রকৃতপক্ষে শয়তানেরই সঙ্গী। তাদের খ্যাতি গৌরবময় নয়, বরং লজ্জাজনক।
চতুর্থ স্তবক:
“ভক্তি-শ্রদ্ধা তোমার কাছে পাইনি কখনো সম্মান,
দেশ ও দশে জেনেছে তোমায় — বেইমান, তুমিই বেইমান।।
👉 ক্ষমতার জোরে মানুষকে দমন করলেও শ্রদ্ধা অর্জন করা যায় না। শেষ পর্যন্ত দেশ ও জনগণ জানে—তুমি বিশ্বাসঘাতক, বেইমান ছাড়া আর কিছু নও।
---
👉 সারকথা:
কবিতাটি একটি অন্যায়-বিদ্বেষী প্রতিবাদী কবিতা। এটি বোঝাচ্ছে—অন্যায় করে, জুলুম চালিয়ে, মাস্তানি দেখিয়ে কেউ চিরকাল টিকে থাকতে পারে না। প্রকৃত সম্মান আসে ন্যায় ও সত্যের পথে চলার মাধ্যমে, জুলুমের পথে নয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন